• استقدم منصّة تجمعك بمكاتب الاستقدام المرخّصة في الأردن — نحن لا نقدّم خدمات الاستقدام بأنفسنا.
Blog

জর্ডানে গৃহকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: অধিকার, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা

জর্ডানে গৃহকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: অধিকার, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা

জর্ডানে গৃহকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: অধিকার, দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা

ভূমিকা

জর্ডানে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একজন গৃহকর্মী পরিবারের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে সাহায্য করেন। ঘর পরিষ্কার করা, রান্না করা, কাপড় ধোয়া, শিশুদের যত্ন নেওয়া এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের সহায়তা করার মতো কাজের মাধ্যমে তাঁরা পরিবারের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তবে একটি নতুন দেশে কাজ করতে গেলে ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাপন এবং কাজের নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। বিশেষ করে যাঁরা প্রথমবার জর্ডানে এসেছেন, তাঁদের জন্য স্থানীয় আইন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই নিবন্ধে জর্ডানে কর্মরত গৃহকর্মীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরামর্শ তাঁদের দৈনন্দিন কাজ আরও ভালোভাবে করতে, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

১. নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানুন

প্রত্যেক গৃহকর্মীর উচিত জর্ডানে তাঁর কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত আইন, অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে জানা।

কাজ শুরু করার আগে আপনার কর্মসংস্থান চুক্তি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। চুক্তিতে বেতন, কাজের ধরন, কাজের সময়, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক শর্ত সম্পর্কে তথ্য থাকা উচিত।

চুক্তির কোনো অংশ বুঝতে অসুবিধা হলে নিয়োগকর্তা, নিয়োগকারী অফিস অথবা বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যাখ্যা চান।

মনে রাখবেন, আপনার অধিকার জানা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আপনার কাজের দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

  • আপনার কর্মসংস্থান চুক্তির একটি কপি নিজের কাছে রাখুন।

  • আপনার পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথির তথ্য সংরক্ষণ করুন।

  • বেতন পাওয়ার তারিখ এবং পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন।

  • কাজের শর্ত পরিবর্তন হলে তা বুঝে নিন এবং প্রয়োজন হলে লিখিত ব্যাখ্যা চান।

  • কোনো সমস্যা হলে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশ্বস্ত ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন।

আপনার নির্দিষ্ট অধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে জর্ডানের বর্তমান আইন ও সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন।

২. মোবাইল ফোন দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করুন

মোবাইল ফোন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নিজের দেশের খবর জানা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য চাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তবে কর্মস্থলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

কাজের সময় অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার করলে কাজের মনোযোগ নষ্ট হতে পারে এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভালো অভ্যাস:

  • কাজের সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফোন ব্যবহার সীমিত রাখুন।

  • পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য সুবিধাজনক সময় ঠিক করুন।

  • শিশুদের দেখাশোনা করার সময় ফোনের পরিবর্তে তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনের দিকে মনোযোগ দিন।

  • রান্না বা পরিষ্কার করার সময় ফোন ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

  • জরুরি যোগাযোগের নম্বরগুলো ফোনে সংরক্ষণ করুন।

আপনার ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রয়োজন থাকলে নিয়োগকর্তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করার চেষ্টা করুন।

৩. নিয়োগকর্তার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান করুন

আপনি যে বাড়িতে কাজ করেন, সেটি অন্য একটি পরিবারের ব্যক্তিগত বাসস্থান। তাই তাঁদের গোপনীয়তা রক্ষা করা আপনার পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা, ছবি, নথি এবং পারিবারিক বিষয় অনুমতি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন:

  • অনুমতি ছাড়া পরিবারের সদস্যদের ছবি বা ভিডিও তুলবেন না।

  • বাড়ির ভেতরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না।

  • পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য অন্যদের কাছে প্রকাশ করবেন না।

  • নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত নথি বা চিঠিপত্র পড়বেন না।

  • পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কথাবার্তা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।

একইভাবে, আপনারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মর্যাদা রয়েছে। পারস্পরিক সম্মান একটি ভালো কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

৪. নিয়োগকর্তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন

একটি ভালো কর্মসম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান, সততা, দায়িত্বশীলতা এবং পরিষ্কার যোগাযোগের মাধ্যমে।

নতুন বাড়িতে কাজ শুরু করলে প্রথম কয়েক দিন কাজের নিয়ম, পরিবারের অভ্যাস এবং প্রত্যাশা বুঝতে সময় নিন।

কোনো কাজ বুঝতে অসুবিধা হলে অনুমান করে কাজ না করে প্রশ্ন করুন।

ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার উপায়:

  • নিয়োগকর্তার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলুন।

  • কাজের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

  • কোনো ভুল হলে তা স্বীকার করুন এবং সংশোধনের চেষ্টা করুন।

  • কোনো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকলে জানিয়ে দিন।

  • কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ রাখুন।

  • কোনো সমস্যা হলে চিৎকার বা ঝগড়া না করে শান্তভাবে আলোচনা করুন।

মনে রাখবেন, ভুল বোঝাবুঝি অনেক সময় ভাষাগত সমস্যার কারণে হয়। তাই কোনো কথা বুঝতে না পারলে আবার ব্যাখ্যা চাইতে দ্বিধা করবেন না।

তবে পারস্পরিক সম্মানের অর্থ এই নয় যে আপনাকে অপমান, হুমকি বা নির্যাতন সহ্য করতে হবে। কোনো গুরুতর সমস্যা হলে উপযুক্ত সহায়তা নিন।

৫. কাজের সময় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন

গৃহকর্মের সময় বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যেমন, গরম পানি বা তেলে পুড়ে যাওয়া, পরিষ্কার করার রাসায়নিক পদার্থের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পিচ্ছিল মেঝেতে পড়ে যাওয়া অথবা ভারী জিনিস তোলার সময় আঘাত পাওয়া।

তাই কাজ করার সময় সবসময় সতর্ক থাকুন।

রান্নাঘরে নিরাপত্তা:

  • গরম হাঁড়ি, পাত্র এবং তেলের কাছাকাছি কাজ করার সময় সতর্ক থাকুন।

  • গ্যাসের গন্ধ পেলে আগুন জ্বালাবেন না এবং নিরাপদভাবে সাহায্য চান।

  • রান্না করার সময় চুলা অযত্নে ফেলে রাখবেন না।

  • ছুরি ও ধারালো জিনিস নিরাপদভাবে ব্যবহার করুন।

পরিষ্কার করার সময় নিরাপত্তা:

  • পরিষ্কার করার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আগে নির্দেশনা পড়ুন।

  • ব্লিচের সঙ্গে অন্য রাসায়নিক পদার্থ মেশাবেন না।

  • সম্ভব হলে কাজের সময় উপযুক্ত গ্লাভস ব্যবহার করুন।

  • ভেজা মেঝে সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করুন।

  • মই বা উঁচু স্থানে কাজ করার সময় নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।

শারীরিক নিরাপত্তা:

  • অতিরিক্ত ভারী জিনিস একা তোলার চেষ্টা করবেন না।

  • কোনো কাজ বিপজ্জনক মনে হলে নিরাপদ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান।

  • অসুস্থ বা আহত হলে তা গোপন না করে যথাযথভাবে জানান।

আপনার নিরাপত্তা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ কীভাবে নিরাপদে করতে হয় তা না জানলে সাহায্য চাইুন।

৬. নিজের স্বাস্থ্য ও বিশ্রামের যত্ন নিন

সুস্থ শরীর ও মন দৈনন্দিন কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার, পরিষ্কার পানি এবং বিশ্রাম আপনার কাজের সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য:

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

  • নিয়মিত খাবার খান।

  • যতটা সম্ভব পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

  • অসুস্থ হলে যথাযথ চিকিৎসা সহায়তা চান।

  • নিজের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ব্যথা হলে তা জানান।

আপনি অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে কথা বলুন।

কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা অবহেলা করবেন না। গুরুতর অসুস্থতা বা জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।

৭. নিজের বেতন ও অর্থ সঠিকভাবে পরিচালনা করুন

আপনার উপার্জিত অর্থ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই বেতন পাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে অর্থ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

প্রথমে নিজের প্রয়োজনীয় খরচ নির্ধারণ করুন। এরপর সম্ভব হলে পরিবারের জন্য অর্থ পাঠানো এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করার পরিকল্পনা করুন।

অর্থ ব্যবস্থাপনার কিছু পরামর্শ:

  • প্রতি মাসে কত টাকা আয় করছেন, তা লিখে রাখুন।

  • প্রয়োজনীয় খরচের একটি তালিকা তৈরি করুন।

  • সম্ভব হলে প্রতি মাসে কিছু অর্থ সঞ্চয় করুন।

  • টাকা পাঠানোর সময় বিশ্বস্ত ও বৈধ মাধ্যম ব্যবহার করুন।

  • টাকা পাঠানোর রসিদ বা লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

  • নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, পিন বা গোপন পাসওয়ার্ড অন্যের সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

কেউ আপনার অর্থ নেওয়ার জন্য চাপ দিলে, আপনার অনুমতি ছাড়া অর্থ ব্যবহার করলে অথবা বেতন নিয়ে সমস্যা তৈরি হলে বিষয়টি নথিভুক্ত করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বস্ত সহায়তা নিন।

৮. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য উপকারী।

তবে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

অনলাইনে নিরাপদ থাকার নিয়ম:

  • নিজের পাসওয়ার্ড অন্যদের জানাবেন না।

  • অপরিচিত ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত নথির ছবি পাঠাবেন না।

  • অপরিচিত লিংকে ক্লিক করার আগে সতর্ক থাকুন।

  • অনলাইনে কেউ টাকা চাইলে বা চাকরির প্রলোভন দেখালে যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।

  • আপনার অবস্থান বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করার আগে ভেবে দেখুন।

  • নিয়োগকর্তার বাড়ির ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করবেন না।

অনলাইনে কেউ আপনাকে হুমকি দিলে, প্রতারণা করার চেষ্টা করলে অথবা ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের ভয় দেখালে বার্তাগুলোর প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং বিশ্বস্ত সহায়তা নিন।

৯. আরবি ভাষা শেখার চেষ্টা করুন

জর্ডানে দৈনন্দিন জীবন সহজ করার জন্য কিছু আরবি শব্দ ও বাক্য শেখা খুবই উপকারী।

আরবি ভাষার মৌলিক জ্ঞান থাকলে আপনি নিয়োগকর্তার নির্দেশনা ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিজের সমস্যা ব্যাখ্যা করতে পারবেন।

প্রতিদিন অল্প অল্প করে নতুন শব্দ শেখার চেষ্টা করুন।

কিছু দরকারি আরবি বাক্য:

  • السلام عليكم — আসসালামু আলাইকুম; শুভেচ্ছা।

  • شكراً — শুকরান; ধন্যবাদ।

  • من فضلك — মিন ফাদলাক/ফাদলিক; অনুগ্রহ করে।

  • لم أفهم — লাম আফহাম; আমি বুঝতে পারিনি।

  • أعد من فضلك — আ'ইদ মিন ফাদলাক; অনুগ্রহ করে আবার বলুন।

  • أحتاج إلى مساعدة — আহতাজু ইলা মুসাআদা; আমার সাহায্য প্রয়োজন।

  • أنا مريضة — আনা মারিদা; আমি অসুস্থ। (নারীর জন্য)

  • أشعر بالتعب — আশউরু বিত-তাআব; আমি ক্লান্ত বোধ করছি।

  • أين المستشفى؟ — আইনা আল-মুস্তাশফা?; হাসপাতাল কোথায়?

  • أريد الاتصال بعائلتي — উরিদুল ইত্তিসাল বি-আয়িলাতি; আমি আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাই।

আপনি প্রতিদিন কয়েকটি শব্দ শিখলে ধীরে ধীরে ভাষার দক্ষতা বাড়াতে পারবেন। প্রয়োজনে শব্দগুলো একটি খাতায় লিখে রাখুন।

১০. শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন

যদি আপনার দায়িত্বের মধ্যে শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে তাঁদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।

শিশুদের যত্ন নেওয়ার সময়:

  • ছোট শিশুদের বিপজ্জনক জিনিসের কাছে একা ছেড়ে দেবেন না।

  • ওষুধ, পরিষ্কার করার রাসায়নিক পদার্থ এবং ধারালো জিনিস শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

  • শিশুদের খাবার ও পানীয় দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।

  • শিশুর কোনো অস্বাভাবিক অসুস্থতা বা আঘাত হলে দ্রুত নিয়োগকর্তাকে জানান।

বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়ার সময়:

  • তাঁদের সঙ্গে ধৈর্য ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করুন।

  • চলাফেরা করতে সাহায্য করার সময় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

  • ওষুধ বা চিকিৎসা সম্পর্কে নির্দেশনা না বুঝলে ব্যাখ্যা চান।

  • কোনো জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত সাহায্য চান।

আপনার দায়িত্বের বাইরে কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ করতে বলা হলে এবং সেটি সম্পর্কে আপনার প্রশিক্ষণ না থাকলে, আগে যথাযথ নির্দেশনা ও সহায়তা নিন।

১১. কোনো সমস্যা হলে কী করবেন?

কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি, অতিরিক্ত কাজ, বেতন নিয়ে বিরোধ অথবা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রথমে সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করুন। যদি নিরাপদ হয়, তাহলে নিয়োগকর্তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলুন।

যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আপনার নিয়োগকারী অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা চাইতে পারেন।

যদি আপনি বেতন না পান:

  • কত টাকা পাওনা রয়েছে, তা লিখে রাখুন।

  • বেতন দেওয়ার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের তথ্য সংরক্ষণ করুন।

  • আপনার কর্মসংস্থান চুক্তির কপি রাখুন।

  • প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিন।

যদি আপনি অপমান, হুমকি বা নির্যাতনের শিকার হন:

  • নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন।

  • সম্ভব হলে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

  • বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

  • জরুরি বিপদের ক্ষেত্রে জর্ডানের জরুরি সেবা বা পুলিশের সাহায্য নিন।

কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।

১২. নিজের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করুন

বিদেশে কাজ করার সময় ব্যক্তিগত নথি ও জরুরি যোগাযোগের তথ্য নিরাপদে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার কাছে বা নিরাপদ স্থানে নিম্নলিখিত তথ্যের কপি রাখার চেষ্টা করুন:

  • পাসপোর্টের তথ্য।

  • কর্মসংস্থান চুক্তি।

  • নিয়োগকারী অফিসের নাম ও যোগাযোগের নম্বর।

  • নিয়োগকর্তার যোগাযোগের তথ্য।

  • আপনার পরিবারের যোগাযোগের নম্বর।

  • প্রাসঙ্গিক সরকারি সংস্থার যোগাযোগের তথ্য।

গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি বা কপি নিরাপদ ডিজিটাল স্থানে সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে এগুলো যেন অপরিচিত ব্যক্তির হাতে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

আপনার পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথি নিয়ে কোনো সমস্যা হলে অথবা নথি ফেরত পেতে অসুবিধা হলে, বর্তমান আইন ও প্রযোজ্য পদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিন।

১৩. নিজের মর্যাদা ও মানসিক সুস্থতার যত্ন নিন

নিজের দেশ, পরিবার এবং পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে থাকা অনেক সময় কঠিন হতে পারে। নতুন দেশে কাজ করার সময় একাকিত্ব, দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ অনুভব করা অস্বাভাবিক নয়।

আপনার অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দিন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন এবং বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলুন।

মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে:

  • পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

  • অবসর সময়ে আপনার পছন্দের নিরাপদ কাজ করুন।

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

  • নিজের অনুভূতি বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে ভাগ করে নিন।

  • কোনো সমস্যা একা সামলাতে না পারলে সাহায্য চান।

মনে রাখবেন, আপনি সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করার যোগ্য। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়; এটি নিজের যত্ন নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১৪. জর্ডানের আইন ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করুন

প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন, সংস্কৃতি এবং সামাজিক রীতি রয়েছে। জর্ডানে

The Istaqdim appSave favourites and follow new arrivals

Soon